আমাদের সম্পদ ও মাটির বিভিন্ন প্রকারভেদ
আমাদের সম্পদ ও মাটির বিভিন্ন প্রকারভেদ
মাটি আমাদের জীবনে কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মাটি আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এই মাটিতেই গাছপালা জন্মায়, ফসল উৎপন্ন হয় এবং মানুষের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত হয়। তাই এই অমূল্য সম্পদকে নানা ধরনের দূষণ থেকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। একই সঙ্গে মাটিই হলো তেল, গ্যাস, কয়লা ও বিভিন্ন খনিজ পদার্থের প্রধান উৎস। একদিকে যেমন আমরা এসব খনিজ সম্পদ উত্তোলনের মাধ্যমে দেশকে সমৃদ্ধ করি, অন্যদিকে তেমনি এই প্রক্রিয়ায় যেন মাটির ক্ষতি বা অপচয় না হয়, সেদিকেও আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
মাটিতে বিদ্যমান জৈব পদার্থকে হিউমাস বলা হয়। হিউমাস মূলত অ্যামিনো অ্যাসিড, প্রোটিন, চিনি, অ্যালকোহল, চর্বি, তেল, লিগনিন, ট্যানিন ও বিভিন্ন অ্যারোমেটিক যৌগের সমন্বয়ে গঠিত একটি জটিল পদার্থ। এটি দেখতে কালচে রঙের হয় এবং মৃত গাছপালা ও প্রাণীর দেহ পচে তৈরি হয়।
Read more:সমাজ জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রভাব কী কী?
মাটির প্রকারভেদ গুলো কি কি?
সূচিপত্র
ভূমিকা
মাটির বিভিন্ন প্রকারভেদ
মাটি দূষণের কারণ ও ফলাফল
মাটি সংরক্ষণের উপায়
মাটিতে অবস্থিত সাধারণ খনিজ পদার্থ
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক জ্বালানির উৎস হিসেবে মাটির ভূমিকা
মাটির প্রধান খনিজ উপাদান কী?
ভূমিকা
মাটিতে গাছপালা জন্মায় এবং সেখান থেকেই আমরা খাদ্যশস্য পাই। শুধু খাদ্যই নয়, গাছপালা থেকেই আমরা বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য অক্সিজেন লাভ করি। মাটি না থাকলে গাছপালা জন্মাত না, ফলে খাদ্য ও অক্সিজেন—দুটোরই অভাব দেখা দিত। মাটির ওপর আমরা ঘরবাড়ি, অফিস, রাস্তাঘাট নির্মাণ করি। আবার মাটির নিচ থেকেই আসে আমাদের ব্যবহৃত পানির একটি বড় অংশ। তাছাড়া তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সম্পদও আহরণ করা হয় মাটির নিচ থেকে।
মাটি বিভিন্ন জৈব ও অজৈব রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণে গঠিত। সাধারণত মাটির উপাদানগুলোকে চার ভাগে ভাগ করা যায়—খনিজ পদার্থ, জৈব পদার্থ, বায়ু ও পানি। এসব উপাদান একে অপরের সঙ্গে মিশে জটিল গঠন তৈরি করে, ফলে আলাদা করে শনাক্ত করা সহজ নয়।
মাটির প্রধান সাতটি প্রকার কি কি?
মাটির গঠন, রং ও পানি ধারণক্ষমতার ভিত্তিতে মাটিকে প্রধানত চার ভাগে ভাগ করা যায়—বালুমাটি, পলিমাটি, কাদামাটি ও দো-আঁশ মাটি।
বালুমাটি
বালুমাটির কণাগুলো আকারে বড় হওয়ায় এদের মাঝে ফাঁকা স্থান বেশি থাকে। ফলে বায়ু চলাচল সহজ হয়। এই মাটি হাতে নিলে দানাদার অনুভূত হয়। বালুমাটিতে চাষাবাদ সহজ হলেও পানি ধারণক্ষমতা কম, তাই পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হয়ে যায়। ফলে বেশি পানি প্রয়োজন এমন ফসল এই মাটিতে ভালো জন্মায় না। তবে জলাবদ্ধ এলাকায় বালুমাটি চাষের জন্য উপযোগী হতে পারে।
পলিমাটি
পলিমাটির পানি ধারণক্ষমতা তুলনামূলক বেশি। ভেজা পলিমাটি আঙুলে ঘষলে মসৃণ অনুভূত হয় এবং হাতে লেগে থাকে। এই মাটি অত্যন্ত উর্বর এবং বালুমাটির তুলনায় কণাগুলো আকারে ছোট। নদীর পানির সঙ্গে ভেসে আসা পলি জমে এই মাটির সৃষ্টি হয়। এতে জৈব ও খনিজ পদার্থের পরিমাণ বেশি থাকে।
কাদামাটি
কাদামাটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো উচ্চ পানি ধারণক্ষমতা। কণাগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় রন্ধ্র ছোট হয় এবং পানি সহজে বের হতে পারে না। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে উদ্ভিদের শিকড় পচে যেতে পারে। এই মাটিতে ফসল ফলাতে জৈব সার প্রয়োগ অত্যাবশ্যক। কাদামাটি দিয়ে মৃৎশিল্প, বাসনপত্র ও নানা শৌখিন সামগ্রী তৈরি করা হয়।
দো-আঁশ মাটি
বালু, পলি ও কাদামাটির সুষম মিশ্রণে দো-আঁশ মাটি গঠিত। এতে পানি ধারণ ও নিষ্কাশন—দুটিই ভালোভাবে হয়। তাই ফসল চাষের জন্য দো-আঁশ মাটি সবচেয়ে উপযোগী।
Read more:নতুনদের জন্য আপওয়ার্কে কিভাবে কাজ পাওয়া যায়?
ভূমি অবক্ষয় ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা কি কি?
মাটি দূষণের সঙ্গে পানি দূষণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। শিল্পকারখানা ও গৃহস্থালি বর্জ্য, তেজস্ক্রিয় পদার্থ এবং খনিজ আহরণ মাটি দূষণের প্রধান কারণ।
শিল্পবর্জ্যে থাকা পারদ, আর্সেনিক, এসিড ও কীটনাশক মাটির উপকারী অণুজীব ধ্বংস করে মাটির উর্বরতা নষ্ট করে। এসব বিষাক্ত পদার্থ খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে মারাত্মক রোগের সৃষ্টি করতে পারে।
পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় পদার্থ মাটি, পানি ও মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আবার খনিজ ও জ্বালানি আহরণের সময় অতিরিক্ত খননের ফলে ফসলহানি, বন ধ্বংস ও পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে।
মাটি সংরক্ষণের উপায়
মাটি সংরক্ষণের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বেশি করে গাছ লাগানো। গাছের শিকড় মাটিকে শক্তভাবে ধরে রাখে এবং ক্ষয় রোধ করে। ফসল কাটার পর গাছের গোড়া জমিতে রেখে দিলে উর্বরতা বাড়ে। ঢালু জমিতে পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ, নির্বিচারে গাছ কাটা বন্ধ এবং অতিরিক্ত পশুচারণ রোধ করাও মাটি সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
মাটিতে অবস্থিত সাধারণ খনিজ পদার্থ
মাটি থেকে প্রাপ্ত খনিজ পদার্থ দিয়ে আমরা পেন্সিলের সিস, চীনামাটির বাসন, ট্যালকম পাউডারসহ অসংখ্য দ্রব্য তৈরি করি। এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫০০ ধরনের খনিজ পদার্থ আবিষ্কৃত হয়েছে। এদের মধ্যে ধাতব ও অধাতব—উভয় প্রকারই রয়েছে।
খনিজের ভৌত ধর্ম ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। যেমন—গ্রাফাইট ও হীরা উভয়ই কার্বন দ্বারা গঠিত হলেও গঠনগত পার্থক্যের কারণে গ্রাফাইট নরম এবং হীরা অত্যন্ত কঠিন।
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক জ্বালানির উৎস হিসেবে মাটির ভূমিকা
বাংলাদেশের প্রধান প্রাকৃতিক জ্বালানি হলো প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও পেট্রোলিয়াম। লক্ষ লক্ষ বছর আগে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ পচে ভূগর্ভে চাপ ও তাপের প্রভাবে এসব জ্বালানির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাকৃতিক গ্যাস মূলত মিথেন দিয়ে গঠিত। পেট্রোলিয়াম তরল জ্বালানি এবং কয়লা কার্বনসমৃদ্ধ এক ধরনের পাললিক শিলা, যা জ্বালানি হিসেবে বহুল ব্যবহৃত।
Read more:মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার কার্যকরী উপায়
উপসংহার
মাটি আমাদের জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। মাটির বিভিন্ন প্রকারভেদ, খনিজ সম্পদ ও জ্বালানি উৎস আমাদের অর্থনীতি ও পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। তাই মাটির সঠিক ব্যবহার, সংরক্ষণ ও দূষণ রোধের মাধ্যমে এই অমূল্য সম্পদকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

.jpeg)
.jpeg)
.jpeg)
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url