M.AITPostAd

ঘুমের ওষুধ খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা কি

 ঘুমের ওষুধ খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা কি

ঘুমের ওষুধ খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা কি

ঘুমের ওষুধ কখন খাওয়া উচিত?

ভূমিকা
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নানা কারণে অনেকেই ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। অনিদ্রা, মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা কিংবা শারীরিক অসুস্থতার কারণে অনেক সময় মানুষ ঘুমের ওষুধ সেবন করে থাকেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়—ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন বা সঠিক পরামর্শ ছাড়াই অনেকে নিজের সিদ্ধান্তে ঘুমের ওষুধ গ্রহণ করেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
আসলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত কোনো ঘুমের ওষুধ নেই। বাজারে প্রচলিত প্রায় সব ধরনের ঘুমের ওষুধেই কোনো না কোনো ক্ষতিকর দিক রয়েছে। সাময়িক কিছু উপকার পাওয়ার আশায় এসব ওষুধ সেবন করা হলেও, দীর্ঘমেয়াদে তা শরীর ও মনের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এমনকি অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত সেবনে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
এই কারণেই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ঘুমের ওষুধ বিক্রি অনেক দেশে নিষিদ্ধ। তবুও বিভিন্ন উপায়ে মানুষ এসব ওষুধ সংগ্রহ করে থাকে, যার ফলে স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া, মানসিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া এবং নানা শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। সব মিলিয়ে ঘুমের ওষুধের উপকারিতা খুবই সীমিত, আর অপকারিতাই তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

আরো পড়ুনঃজীবন বাঁচাতে স্বাস্থ্য বিজ্ঞান-জীবনে বিজ্ঞানের ভূমিকা

ঘুমের ঔষধ খেলে কি কিডনির ক্ষতি হয়?

সাধারণভাবে ঘুমের ওষুধের উল্লেখযোগ্য কোনো উপকারিতা নেই। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে—যেমন দীর্ঘদিনের তীব্র অনিদ্রা বা গুরুতর মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে—ডাক্তার প্রয়োজনবোধে সীমিত সময়ের জন্য ঘুমের ওষুধ প্রেসক্রিপশন করে থাকেন।
ডাক্তার সাধারণত রোগীর শারীরিক অবস্থা যাচাই করে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর নির্দিষ্ট মাত্রা ও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেন। এর উদ্দেশ্য হলো শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়া, কারণ দীর্ঘদিন ঘুমের অভাবে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে।
তবে মনে রাখতে হবে, ঘুমের ওষুধ দীর্ঘদিন সেবন করলে এতে আসক্ত হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্যই চিকিৎসকরা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওষুধ সেবনের নির্দেশ দেন। সেই সীমা অতিক্রম করলে শরীরে আরও গুরুতর রোগ দেখা দিতে পারে।

ঘুমের ওষুধ খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা কি
সব থেকে ভালো ঘুমের ঔষধের নাম কি?

ঘুমের ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে অপকারিতাই সবচেয়ে বড় দিক। অতিরিক্ত বা অনিয়মিত সেবনে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা দেখা, শরীরের ভারসাম্য হারানোসহ নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে হঠাৎ করে ঘুমের ওষুধ শুরু করলেও এসব লক্ষণ দেখা যায়।
ঘুমের ওষুধ সাধারণত ঘুমানোর প্রায় ৩০ মিনিট আগে সেবন করে সরাসরি বিছানায় শুয়ে পড়তে হয়। ওষুধ সেবনের পর যদি কেউ বাইরে চলাফেরা করে বা কোনো কাজ করে, তাহলে তার আচরণ ও কথাবার্তা এলোমেলো হয়ে যেতে পারে।
দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় ঘুমের ওষুধ সেবনের ফলে শরীরে দুর্বলতা, চলাফেরায় সমস্যা, অস্বাভাবিক আচরণ, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এমনকি পরিচিত মানুষ বা বিষয় ভুলে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ঘুম শরীরের জন্য আরও ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।
সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো—দীর্ঘমেয়াদে ঘুমের ওষুধ সেবনের ফলে কিডনি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই যারা বর্তমানে ঘুমের ওষুধ সেবন করছেন, তাদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া এবং বিকল্প সমাধান খোঁজা জরুরি।

আরো পড়ুনঃকমলা গাছের যত্ন এবং পরিচর্যার পদ্ধতি

কিভাবে সহজে ঘুমের ওষুধ ছাড়া যায়

যারা দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের ওষুধ সেবন করছেন, তারা হঠাৎ করে একেবারে বন্ধ করলে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় পড়তে পারেন। যেমন—একেবারেই ঘুম না আসা, অস্থিরতা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, খাবারে অনীহা ও মানসিক অস্বস্তি।
তাই ঘুমের ওষুধ ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা উচিত। পাশাপাশি কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তুললে ধীরে ধীরে ওষুধ ছাড়াও স্বাভাবিক ঘুম সম্ভব। যেমন—

প্রতিদিন নিয়মিত ব্যায়াম করা
পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম করা
সুষম ও সময়মতো খাবার খাওয়া
নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা

ঘুমের ওষুধ খাওয়ার উপকারিতা এবং অপকারিতা কি

ঘুমের ঔষধ খাওয়া ভালো না ঘুমানো ভালো?

ঘুমানোর আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো
নিয়মিত নামাজ আদায় করা এবং ঘুমের আগে দোয়া পড়া
এসব অভ্যাস নিয়মিত বজায় রাখলে একসময় শরীর ও মন স্বাভাবিকভাবেই ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।

আরো পড়ুনঃফাইভারে নতুনদের জন্য কম সার্ভিস ভলিউম নীশ রিসার্চ

উপসংহার
ঘুমের ওষুধ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়—এর অপকারিতাই বেশি। তাই নিয়মিত ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও শৃঙ্খলাবদ্ধ অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান।
যারা এখনো নিয়মিত ঘুমের ওষুধ সেবন করছেন, তাদের উচিত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করা। কারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত ঘুমের ওষুধ বাস্তবে প্রায় নেই। নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও মানসিক প্রশান্তিই পারে আমাদের স্বাভাবিক ঘুম নিশ্চিত করতে। পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমই শরীর ও মনের সুস্থতার মূল চাবিকাঠি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪