M.AITPostAd

দৈনন্দিন জীবনে পানির ভূমিকা এবং প্রয়োজনীয়তা?

 দৈনন্দিন জীবনে পানির ভূমিকা এবং প্রয়োজনীয়তা?

দৈনন্দিন জীবনে পানির ভূমিকা এবং প্রয়োজনীয়তা

দৈনন্দিন জীবনে পানির গুরুত্ব?

পানির আরেক নাম জীবন। শুধু জীবন ধারণের জন্যই নয়, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্যও পানির গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা নানা উৎস থেকে পানি পাই, কিন্তু বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণে এই অতি প্রয়োজনীয় পানির উৎসগুলো আজ হুমকির মুখে। এসব হুমকি থেকে পানির উৎস কীভাবে সংরক্ষণ ও সুরক্ষা করা যায়—তা জানা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কারণ এখনই যদি আমরা এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিই, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের ভয়াবহ পানিসংকটের মুখোমুখি হতে হবে। n

আমাদের জীবনে পানির গুরুত্ব কী?

সূচিপত্
১. ভূমিকা
২. পানির ধর্ম কী এবং কাকে বলে
৩. পানির উৎসসমূহ
৪. জলজ উদ্ভিদের জন্য পানির প্রয়োজনীয়তা
৫. পানির মানদণ্ড
৬. উপসংহার

দৈনন্দিন জীবনে পানির প্রয়োজন কেন?

ভূমিকা
পৃথিবীতে প্রাপ্ত সকল তরল পদার্থের মধ্যে পানি সবচেয়ে সহজলভ্য ও গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের দেহের প্রায় ৬০–৭০ শতাংশই পানি দ্বারা গঠিত। তাই বলা হয়, পানি ছাড়া জীবন অসম্ভব। পৃথিবীর প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ জুড়ে রয়েছে পানি এবং এক ভাগ জুড়ে রয়েছে স্থলভাগ, যেখানে মানুষসহ অসংখ্য জীবের বসবাস। প্রতিটি জীবের বেঁচে থাকার জন্য পানির ভূমিকা অপরিহার্য। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি কাজেই আমরা পানির প্রয়োজন অনুভব করি।

Read more:ডিজিটাল মার্কেটিং ফ্রিল্যান্সিং কোর্স

পানি আমাদের জন্য প্রয়োজনীয় কিভাবে বলব?

আমাদের জীবনে পানির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। রান্না, পান করা, গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা—সব কাজেই পানির ব্যবহার রয়েছে। পানির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম নিচে আলোচনা করা হলো।

গলনাংক ও স্ফুটনাংক

পানি কঠিন অবস্থায় থাকলে তাকে বরফ বলা হয়। যে তাপমাত্রায় বরফ গলে তরলে পরিণত হয়, তাকে গলনাংক বলে। পানির গলনাংক ০° সেলসিয়াস।
অন্যদিকে, যে তাপমাত্রায় তরল পানি বাষ্পে পরিণত হয়, তাকে স্ফুটনাংক বলে। বায়ুমণ্ডলীয় চাপে পানির স্ফুটনাংক প্রায় ১০০° সেলসিয়াস।

বিশুদ্ধ পানি বর্ণহীন, গন্ধহীন ও স্বাদহীন। পানির ঘনত্ব তাপমাত্রার ওপর নির্ভরশীল। ৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানির ঘনত্ব সর্বাধিক, যা ১ গ্রাম/সিসি বা ১০০০ কেজি/মিটার³।

দৈনন্দিন জীবনে পানির ভূমিকা এবং প্রয়োজনীয়তা

আমাদের দেহে পানির কাজ কি?

বিশুদ্ধ পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী নয়। তবে এতে লবণ, অ্যাসিড বা ক্ষারের মতো তড়িৎ বিশ্লেষ্য পদার্থ দ্রবীভূত থাকলে পানি বিদ্যুৎ পরিবাহিতা দেখায়। পানি অধিকাংশ অজৈব যৌগ ও অনেক জৈব যৌগ দ্রবীভূত করতে পারে বলে একে “সার্বজনীন দ্রাবক” বলা হয়। পানি উভধর্মী পদার্থ—এটি প্রয়োজনে অ্যাসিড বা ক্ষার হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশুদ্ধ পানির pH মান ৭, অর্থাৎ এটি নিরপেক্ষ।

পানির গঠন
পানি দুটি হাইড্রোজেন পরমাণু ও একটি অক্সিজেন পরমাণু দ্বারা গঠিত। তাই পানির রাসায়নিক সংকেত হলো H₂O।

পানির উৎসসমূহ
পানির সবচেয়ে বড় উৎস হলো সমুদ্র ও মহাসাগর। পৃথিবীর মোট পানির প্রায় ৯৭ শতাংশই সমুদ্রের পানি, যা লবণাক্ত হওয়ায় পান ও দৈনন্দিন ব্যবহারের অনুপযোগী।

আরেকটি বড় উৎস হলো হিমবাহ ও তুষারস্তর, যেখানে প্রায় ২ শতাংশ পানি বরফ আকারে জমা থাকে। ব্যবহারযোগ্য মিঠা পানির প্রধান উৎস হলো নদী, খাল, বিল, হ্রদ, পুকুর ও ভূগর্ভস্থ পানি। নলকূপের মাধ্যমে আমরা ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করি। পাহাড়ি অঞ্চলে তুষার গলে ঝর্ণার সৃষ্টি হয়। উল্লেখযোগ্য যে, পৃথিবীতে ব্যবহারযোগ্য মিঠা পানি মাত্র প্রায় ১ শতাংশ।

বাংলাদেশে মিঠা পানির উৎস

বাংলাদেশে মিঠা পানির প্রধান উৎস হলো নদ-নদী, খাল-বিল, পুকুর ও ভূগর্ভস্থ পানি। তবে আর্সেনিক দূষণের কারণে দেশের অনেক অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানি পান করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক মানুষ বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে পরিশোধনের মাধ্যমে ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে।

জলজ উদ্ভিদের জন্য পানির প্রয়োজনীয়তা

কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা, শাপলা, পদ্ম, শেওলা, কলমি, হেলেঞ্চা ইত্যাদি বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ পানিতেই জন্মায়। পানি ছাড়া অধিকাংশ জলজ উদ্ভিদ জন্মাতে বা বেঁচে থাকতে পারে না। পানির অভাবে পরিবেশের মারাত্মক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হতো।

জলজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা বজায় রাখে এবং জলজ প্রাণীর খাদ্য হিসেবে কাজ করে। এরা মূলের পরিবর্তে সারা দেহের মাধ্যমে পানি ও খনিজ লবণ শোষণ করে। পানির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এদের কাণ্ড ও অন্যান্য অঙ্গ নরম হয়। পানি ছাড়া এরা বেড়ে উঠতে বা বংশবিস্তার করতে সক্ষম নয়।

Read more:ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে কত সময় লাগে?

পানির মানদণ্ড

পানি একটি মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ। এর সঠিক মান বজায় না থাকলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের মারাত্মক ক্ষতি হয়।
বর্ণ ও স্বাদ

বিশুদ্ধ পানি বর্ণহীন ও স্বাদহীন হওয়া উচিত।

ঘোলাভাব
পানি ঘোলা হলে সূর্যালোক পানির নিচে পৌঁছাতে পারে না, ফলে সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয় এবং দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে যায়।

তেজস্ক্রিয় পদার্থ

পানিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থ থাকলে তা জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
ময়লা ও আবর্জনা
প্রাকৃতিক পানির উৎস অবশ্যই ময়লা-আবর্জনা ও রোগজীবাণুমুক্ত হতে হবে।

দৈনন্দিন জীবনে পানির ভূমিকা এবং প্রয়োজনীয়তা

দ্রবীভূত অক্সিজেন

জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন অত্যন্ত জরুরি। প্রতি লিটার পানিতে কমপক্ষে ৫ মিলিগ্রাম অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন।

তাপমাত্রা
অতিরিক্ত তাপমাত্রা পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কমিয়ে দেয় এবং জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত করে।

Read more:তথ্য এবং যোগাযোগ প্রযুক্তির আমাদের জীবনে প্রয়োজনীয়তা

উপসংহার

উপরের আলোচনায় আমরা বুঝতে পারলাম যে দৈনন্দিন জীবনে পানির ভূমিকা ও প্রয়োজনীয়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু মানুষ নয়—সব জীবজন্তু, উদ্ভিদ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পানির গুরুত্ব অপরিসীম। তাই পানির সঠিক ব্যবহার, সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। পানিকে রক্ষা করতে পারলেই আমরা একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারব।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪